Skip to content

CELL AUTOPHAGY(Noble Oriented)

মানবদেহের সুস্থ কোষ মরা কোষ কে খেয়ে ফেলে, আর রোজা থাকার বা সিয়াম পালনের মাধ্যমে এই কাজটি সম্পন্ন হয়, আর এই প্রক্রিয়াটি আবিষ্কারের জন্য সর্বপ্রথম নোবেল পুরস্কার অর্জন করেন জাপানের চিকিৎসা বিজ্ঞানী  ইউসিনরি অসুমী

মানবদেহের ভেতর আছে এক অসাধারণ স্ব-চিকিৎসা ব্যবস্থা, যা সক্রিয় হয় যখন আমরা ক্ষুধা অনুভব করি। এই প্রক্রিয়াটির নাম Autophagy — অর্থাৎ “নিজেকে খাওয়া”। এটি এমন এক প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে শরীর নিজেই অসুস্থ, পুরোনো বা ক্ষতিগ্রস্ত কোষগুলোকে দূর করে নতুন ও সুস্থ কোষ তৈরি করে। এটাই শরীরের সবচেয়ে শক্তিশালী টিকে থাকার উপায়গুলোর একটি, যা শরীরকে রাখে সতেজ, দীর্ঘায়ু ও রোগপ্রতিরোধী।

গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়ন্ত্রিত উপবাস বা ক্যালোরি কমানো শরীরে অটোফেজি প্রক্রিয়াকে সক্রিয় করে, ফলে দেহ কোষীয় স্তরে নিজেকে পুনরুদ্ধার ও নবায়ন করার সুযোগ পায়। এই প্রক্রিয়া শুধু শরীরকে ভেতর থেকে পরিশুদ্ধই করে না, বরং বাড়ায় বিপাকক্রিয়ার গতি, শক্তি এবং রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা।

 

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, অটোফেজি সম্পর্কে সঠিক ধারণা ও নিয়ন্ত্রণ ভবিষ্যতের প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্য ও পুনরুজ্জীবন চিকিৎসা ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে — যা আমাদের দিতে পারে প্রাকৃতিকভাবে দীর্ঘ, শক্তিশালী ও সুস্থ জীবন।

 

#InvenoxBD #স্বাস্থ্যতথ্য #দীর্ঘায়ু #উপবাসের_উপকারিতা #Autophagy #স্বাস্থ্যজীবন

জাপানি বিজ্ঞানী

ইয়োশিনোরি ওহশুমি (Yoshinori Ohsumi) ২০১৬ সালে অটোফেজি আবিষ্কারের জন্য নোবেল পুরস্কার পান। তার গবেষণার মাধ্যমে জানা যায়, কীভাবে কোষগুলো ক্ষতিগ্রস্ত উপাদানগুলোকে ধ্বংস ও পুনর্ব্যবহার করে নিজেদের রক্ষা করে। উল্লেখ্য, শব্দটি ১৯ শতকে ব্যবহৃত হলেও, আধুনিক অটোফেজি প্রক্রিয়ার উপর গবেষণার জন্য ওহশুমিই মূলত পরিচিতি লাভ করেন। 

  • অটোফেজি কী: এটি একটি প্রাকৃতিক শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে শরীর তার নিজের ক্ষতিগ্রস্ত বা অপ্রয়োজনীয় কোষগুলোকে ভেঙে ফেলে এবং পুনর্ব্যবহার করে।

  • ওহশুমির অবদান: ইয়োশিনোরি ওহশুমির গবেষণার মূল বিষয় ছিল কোষের এই “স্ব-ভক্ষণ” বা অটোফেজি প্রক্রিয়াটি।

  • নোবেল পুরস্কার: এই আবিষ্কারের জন্য তিনি ২০১৬ সালে শারীরবিদ্যা বা মেডিসিনে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন। 

  • বিজ্ঞানী ইয়োশিনোরি ওহশোমি ও অটোফেজি

    ইয়োশিনোরি ওহশোমি

    ইয়োশিনোরি ওহশোমি

    চিকিৎসা বিজ্ঞানে এ বছর নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন জাপানের অটোফেজি গবেষক ইয়োশিনোরি ওহশোমি। জীবদেহ কেমন করে ত্রুটিপূর্ণ কোষ ধ্বংস করে নিজের সুরক্ষা করে এবং কোষ কীভাবে নিজের আবর্জনা প্রক্রিয়াজাত করে সুস্থ থাকে, সেই রহস্য বের করার কারণে নোবেল পুরস্কার পেলেন এ বিজ্ঞানী। বিজ্ঞানের ভাষায় এ প্রক্রিয়াকে বলা হয় অটোফেজি। আর যে জিনটি এই অটোফেজি প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে সেটি শনাক্ত করেছিলেন টোকিও ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির এ অধ্যাপক।
    ১৯৬০ সালে বিজ্ঞানীরা প্রথম দেখতে পান, কোষ কীভাবে নিজের ভেতরে একটি বস্তার মতো ঝিল্লি তৈরি করে নিজের আবর্জনা বা ক্ষতিগ্রস্ত উপাদানকে তার ভেতরে আটকে ফেলে। বেলজিয়ামের বিজ্ঞানী ক্রিস্টিয়ান ডে ১৯৭৪ সালে এ লাইসোজম আবিষ্কারের কারণে চিকিৎসা বিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন। তবে সেখানে ঠিক কী ঘটে সেটা তখন বিজ্ঞানীদের জানা ছিল না। বিজ্ঞানী ইয়োশিনোরি ওহশোমি পৃথিবীতে সর্ব প্রথম অটোফেজি নিয়ে কাজ শুরু করেন। তিনি লক্ষ্য করেন লাইসোজম শুধু দেহের আবর্জনা বা ক্ষতিগ্রস্ত উপাদান জমা করে রাখে না। এটা রিসাইক্লিং চেম্বার বা নবায়নযোগ্য শক্তিব্যবস্থা হিসেবে কাজ করে নতুন উপাদান/কোষ তৈরি করে। ইউশিনোরি দেখিয়েছেন, কোষেরা নিজেরাই নিজেদের বর্জিতাংশ বা আবর্জনাকে আটকায়। এরপর সেখান থেকে উপকারী উপাদানগুলোকে ছেঁকে আলাদা করে ফেলে। তারপর ওই দরকারি উপাদানগুলো দিয়ে উৎপাদন করে শক্তি কিংবা গড়ে তোলে নতুন নতুন অনেক কোষ। এ মহৎ কাজ তাঁকে আজ ২০১৬ সালে নোবেল পুরস্কার এনে দিয়েছে।
    অটোফেজি প্রক্রিয়াটি আসলে কি? অটোফেজি শব্দটি এসেছে গ্রিক শব্দ অটো ও ফাজেইন থেকে। বাংলায় এর অর্থ হচ্ছে—আত্ম ভক্ষণ বা নিজেকে খেয়ে ফেলা। বিষয়টি শুনতে ভয়ানক হলেও এটা শরীরের জন্য খুবই উপকারী। কেননা এটা শরীরের অভ্যন্তরীণ অঙ্গসমূহকে পরিষ্কার করার একটা প্রক্রিয়া, যা সম্পন্ন হয় কোষীয় পর্যায়ে। শরীরের বিভিন্ন কাজ করার জন্য প্রতিনিয়ত প্রোটিন তৈরি হয় এবং প্রোটিনের কাজটি সঠিকভাবে সম্পন্ন করার জন্য প্রোটিনের গঠনটি অ্যামিনো অ্যাসিড দ্বারা ত্রিমাত্রিক হতে হয়। যদি ত্রিমাত্রিক না হয় তবে প্রোটিনটি শরীরের জন্য ক্ষতিকারক হতে ও নানা রোগের সৃষ্টি করবে।

    অটোফেজির প্রক্রিয়া

    অটোফেজির প্রক্রিয়া

    এক গবেষণায় দেখা গেছে, ৩০% প্রোটিন সঠিকভাবে সংশ্লেষ হতে পারে না ফলে এদের ধ্বংস করা, শরীর থেকে বের করে দেওয়া কিংবা অন্য উপায়ে কাজে লাগানো জরুরি। কেননা শরীরে এরা থাকলে বিভিন্ন রোগের সৃষ্টি হবে। প্রশ্ন হলো, কীভাবে ক্ষতিকারক প্রোটিনকে কাজে লাগানো যায়? আমাদের দেহ অটোফেজির মাধ্যমে এদের কাজে লাগায়। অটোফেজি প্রক্রিয়াটি আমাদের শরীরকে কার্যকরী করে রাখে, দুর্বল অঙ্গাণু থেকে মুক্তি দেয় এবং ক্যানসার কোষ ধ্বংস করে। শরীরে এ প্রক্রিয়া অনুপস্থিত থাকলে ক্যানসার কিংবা নানাবিধ স্নায়বিক রোগ হতে পারে। নোবেল কমিটির মতে, ইয়োশিনোরির গবেষণাটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কেননা ক্যানসার থেকে শুরু করে নানাবিধ স্নায়বিক রোগগুলোর (যেমন ডেমনেশিয়া, পারকিনসন্স) ক্ষেত্রে শরীরে কী ধরনের পরিবর্তন হয় তা বুঝতে তার গবেষণাটি সহায়তা করে। এককথায় বলা যায়, অটোফেজি রোগ প্রতিরোধ করে এবং আমাদের যৌবন ধরে রাখতে সহায়তা করে।
    প্রথম জীবনে তিনি রসায়নে গবেষণা শুরু করেছিলেন। রসায়ন তাঁর কাছে আকর্ষণীয় না হওয়ায় তিনি কোষীয় জীববিদ্যায় কাজ শুরু করেন। কিন্তু ভালো ফলাফল না পাওয়ায় এক সময় তাঁকে খুব কঠিন সময় পার করতে হয়েছিল। নতুন একটি ক্ষেত্রে কাজ করা তাঁর জন্য সহজ ছিল না। কিন্তু তিনি ঝুঁকি নিয়েছিলেন। সে জন্য, আজ থেকে ২৭ বছর আগে ইস্ট নিয়ে গবেষণার সময় ইউশিনোরি ওসুমি এই অটোফেজি ব্যবস্থা আবিষ্কার করে ফেলেন। তাঁর মতে, গবেষণায় ভালো ফলাফল আসবে তা কেউ গ্যারান্টি দিয়ে বলতে পারেন না, তবুও গবেষকেরা কাজ করে যান। কারণ তারা গবেষণায় আনন্দ পান ও এই জিনিসটাই গবেষণার জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। ২০১২ সালে এক সাক্ষাৎকারে তিনি গবেষণায় ঝুঁকি নেওয়া ও ব্যর্থতার গুরুত্ব সম্পর্কে বলেছিলেন। বিজ্ঞান সফলতা চায়, ব্যর্থতা গ্রহণ করে না, তিনি সে সাক্ষাৎকারে তরুণ গবেষকদের ব্যর্থতায় হতাশ না হয়ে পরবর্তী সুযোগ গ্রহণের উপায় দেখিয়েছিলেন।
    জাপানি অধ্যাপক ইয়োশিনোরি, অটোফেজি প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণকারী জিন শনাক্ত করার পাশাপাশি এসব জিনে কোনো সমস্যা হলে কীভাবে রোগ সৃষ্টি হয় তাও দেখান। তাঁর গবেষণার মধ্য দিয়ে স্নায়ুজনিত ওই সব রোগে শরীরে কী ধরনের পরিবর্তন হয়, তা বোঝা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে বার্ধক্যজনিত নানাবিধ রোগের চিকিৎসার ক্ষেত্রে এটি যুগান্তকারী ভূমিকা রাখবে। অধ্যাপক ইয়োশিনোরি বলেছেন, অটোফেজি নিয়ে যখন তিনি কাজ শুরু করেছিলেন, তার চেয়ে এখন অনেক বেশি প্রশ্নের উত্তর জানা বাকি। এসব প্রশ্নের উত্তর আমরা ভবিষ্যতে জানতে পারব। কেননা এখন আর তিনি একা নন। এ পৃথিবীতে হাজার হাজার গবেষক অটোফেজি নিয়ে কাজ করছেন। অটোফেজি প্রক্রিয়ার এ চলমান গবেষণা ভবিষ্যতে আমাদের স্বাস্থ্যসেবায় যে অনেক সুফল নিয়ে আসবে সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই।

    *লেখক অটোফেজি গবেষক, শিজুওকা ইউনিভার্সিটি, জাপান

    রোজা, অটোফেজি এবং মানব শরীরের প্রাকৃতিক সুস্থতা – প্রয়োজনীয় সংশোধনীসহ রিপোস্ট

  • ১৩ ই এপ্রিল, ২০২২ দুপুর ১২:৫৯
  •  ছবিঃ অন্তর্জাল।

রোজা, অটোফেজি এবং মানব শরীরের প্রাকৃতিক সুস্থতাঃ

 

প্রাককথনঃ

 

২০১৬ ইং সালে চিকিৎসা বিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন জাপানের অটোফেজি গবেষক ইয়োশিনোরি ওহশোমি। অটোফেজি প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করা জিনটিকে শনাক্ত করেছিলেন টোকিও ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির গুণী এ অধ্যাপক। বস্তুতঃ গবেষক বিজ্ঞানী ইয়োশিনোরি ওহশোমি মুসলিম ধর্মাবলম্বীগণের রোজার শারিরীক বহুবিধ উপকারিতা এবং রোজা রাখার যৌক্তিকতা প্রমানের জন্য অটোফেজি গবেষনা করেছেন – বিষয়টি এমন, এই দাবি আমরা কখনোই করছি না; কিন্তু তিনি অটোফেজির যে প্রক্রিয়া ও ফলাফল বর্ণনা করেছেন তা রোজার সাথে যথেষ্ট সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়ার কারণেই বিষয়টি আলোচনায় আনার প্রচেষ্টা। তবে তিনি তার অটোফেজি গবেষনায় রোজা থেকে কোনপ্রকার প্রেরণা লাভ করেননি – এ কথা আমরা হলফ করে বলতেও পারছি না।

অটোফেজি কি?

 

জীবদেহ কেমন করে ত্রুটিপূর্ণ কোষ ধ্বংস করে নিজের সুরক্ষা করে এবং কোষ কীভাবে নিজের আবর্জনা প্রক্রিয়াজাত করে সুস্থ থাকে, সেই রহস্য বের করার কারণে নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন এ বিজ্ঞানী। বিজ্ঞানের ভাষায় এ প্রক্রিয়াকে বলা হয় অটোফেজি।

 

অটোফেজি শব্দটি গ্রীক। এর প্রথম অংশ ‘অটো’ অর্থ ‘স্বয়ং’, এবং দ্বিতীয় অংশটি ‘ফেজি’, যার অর্থ ‘খাওয়া’। সুতরাং, অটোফেজি বলতে ‘নিজেকে খাওয়া’ বোঝায়। এই ধারণাটি ৬০ এর দশকে উদ্ভাবিত হয়েছিল, যখন গবেষকরা দেখতে পান শরীরের কোষগুলো নিজেরা নিজেদের বিনাশ করতে পারে, নিজেকে চারপাশ থেকে ঝিল্লিতে আটকে ফেলার মাধ্যমে। এভাবে কোষগুলো বস্তার মতো ফুসকুড়িতে পরিণত হয়, যেটি পরবর্তীতে নবায়নের জন্য কোষের ভেতরে লাইসোসোম নামে একটি রিসাইকল সেন্টারে স্থানান্তরিত হয়। এর আগে এই বিষয়ে তেমন কিছু জানা ছিলো না। ১৯৯০ এর শুরুর দিকে ইয়োশিনোরি ওহসুমির অনেকগুলো পরীক্ষায়, অটোফেজি জন্য প্রয়োজনীয় জিনগুলি সনাক্ত করতে ইস্ট (Yeast) ব্যবহার করেন। তারপরে তিনি ইস্টে অটোফেজি অন্তর্নিহিত প্রক্রিয়াগুলি ব্যাখ্যা করেন এবং দেখিয়েছিন যে আমাদের কোষগুলিতেও অনুরূপ অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা হয়।কীভাবে কোষ তার জমানো মালামাল রিসাইকল করে তা বোঝার ক্ষেত্রে ওহশোমির এই আবিষ্কার নতুন দিগন্তের সূচনা করেছে। অনেক শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া যেমন উপবাসের সাথে খাপ খাইয়ে নেয়া কিংবা সংক্রমণের প্রতিক্রিয়া ইত্যাদি বোঝার ক্ষেত্রে অটোফেজি দারুণ রাস্তা দেখিয়েছে। অটোফ্যাজি জিনের মিউটেশন যে কোনো রোগের কারণ হতে পারে এবং অটোফেজির এই প্রক্রিয়াটি ক্যান্সার এবং অন্যান্য স্নায়বিক রোগের সাথে যুক্ত থাকতে পারে।

 

রোজা পালনে অটোমেটিক হয়ে যায় অটোফেজির অনুশীলনঃ

 

প্রত্যেক রোজাদার রোজা রাখেন মহান আল্লাহ তাআ’লার নির্দেশ পালন করার জন্য। তাকে খুশি করার উদ্দেশ্যে। কোনো রোজাদারই অটোফেজি করার জন্য রোজা রাখেন না। হয়তো বলা অত্যুক্তি হবে না যে, অটোফেজি জিনিষটা যে কি, এখনও শতকরা পাঁচ বা দশভাগ মানুষ হয়তো জানেনও না। অন্ততঃ আমাদের মত উন্নয়নশীল দেশের চিত্র যে এরকমই, তাতে বোধ করি কেউ সন্দেহ করবেন না। কিন্তু মজার বিষয় কি জানেন? মজার বিষয় হচ্ছে, রোজা পালনের দ্বারা অটোমেটিক্যালি হয়ে যায় অটোফেজির সঠিক অনুশীলন। রোজাদার জেনে থাকুন অথবা না-ই জানুন, রোজা পালনের মাধ্যমে অটোফেজির সঠিক এবং পূর্ণাঙ্গ অনুশীলন তার পুরোপুরিভাবেই হয়ে যায়। আর অটোফেজি শরীরকে ভাঙে না বরং গড়ে তোলে। আর অটোফেজির এই পদ্ধতিকে চালু করতে প্রয়োজন কিছুটা দীর্ঘ তবে সবিরাম উপবাস। যা রোজা রাখার মাধ্যমে খুব সহজেই আপনি করতে পারেন। তবে, আমাদের মনে রাখতে হবে, রোজা যেমন সুস্থ ব্যক্তির উপরে ফরজ বা বাধ্যতামূলক, অটোফেজির প্রয়োগও করা হয়ে থাকে কেবলমাত্র সুস্থ ব্যক্তির উপরে এবং এসব কিছুর পেছনে একটিই উদ্দেশ্য, আর তা হচ্ছে, সুস্থ ব্যক্তির সুস্থতাকে কিভাবে ধরে রাখা যায়। তো, নোবেলজয়ী অটোফেজি গবেষক ইয়োশিনোরি ওহশোমিসহ অন্যান্য যারা অটোফেজি নিয়ে কাজ করছেন, গবেষনা করে করে এতটা পথ মানবজাতির জন্য খোলাসা করেছেন তাদের প্রতি অভিনন্দন জানাতেই হয়। সঙ্গত কারণে বিগত দেড় হাজার বছর পূর্বে যখন আধুনিক পরীক্ষণ যন্ত্র, পরীক্ষাগার কিংবা চিকিৎসা বিজ্ঞান বলতে তেমন কিছুই ছিল না পৃথিবীবাসীর সামনে, সেই সময়ে প্রতি বছরে একটি মাস বা ত্রিশটি দিন উপবাস থাকার যে বিধান ইসলাম ধর্মের মাধ্যমে বিশ্ববাসী লাভ করেছে, তা কতটুকু বিজ্ঞানসম্মত কিংবা আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের সাথে তুলনীয়, সেই দায়িত্ব সম্মানিত পাঠকবৃন্দের উপরেই রেখে দিলাম।

 

শরীরে প্রাকৃতিক নিরাময়ের কৌশল খুঁজি যা রয়েছে রোজায়ঃ

 

আমরা সুস্থ থাকতে চাই। বেশি থেকে বেশি দিন সুস্থাবস্থায় বেঁচে থাকতে চাই। আর যারা নিতান্ত হতাশাবাদী বলে মনে করেন নিজেদেরকে, বেশি দিন বাঁচতে চান না, পৃথিবীর রঙ রস কোনো কিছুই যাদের ভালো লাগে না, তারাও চান যে, যত দিন বেঁচে থাকেন যেন সুস্থ থাকতে পারেন। আমরা শরীরে প্রাকৃতিক নিরাময়ের কৌশল খুঁজি যা রয়েছে রোজায়। জগতের অনেক জ্ঞানী, গুণী এবং বিখ্যাত ব্যক্তিই শরীরে প্রাকৃতিক নিরাময়ের ক্ষেত্রে একটিমাত্র অভিন্ন সমাধান দিয়েছেন। কী সেই সমাধান? উত্তর শুনলে হয়তো অনেকেই চোখ কপালে তুলবেন। সমাধানটি হচ্ছে ইন্টারমিটেন্ট ফ্যাস্টিং বা সবিরাম উপবাস। একাধারে দীর্ঘ সময় অনাহারী থাকা। খাদ্য পানীয় ইত্যাদি সকল কিছু থেকে বিরত থাকা। দূরে থাকা।

 

শরীরের মধ্যেই বসবাস করে প্রাকৃতিক ডাক্তারঃ

 

গ্রিক চিকিৎসক হিপোক্রেটিসকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের জনক বলা হয়ে থাকে। উপবাস নিয়ে চমৎকার একটি কথা বলেছেন তিনি। তার ভাষায়, ‘আমাদের প্রত্যেকের শরীরের মধ্যেই বসবাস করে একজন ডাক্তার। আমাদের উচিত সেই ডাক্তারকে কাজ করতে দেয়া। এটি একটি প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া।’

 

তিনি আরও বলেছেন, ‘খাবারই হওয়া উচিত আমাদের ওষুধ, ওষুধই হওয়া উচিত আমাদের খাবার। কিন্তু আমরা যখন অসুস্থ হই তখন যদি আমরা খাবার গ্রহণ করি তখন তা কিন্তু প্রকারান্তরে সেই অসুস্থতাকেই খাবার জোগান দেয়া হয়। শরীরের ডাক্তারকে কাজ করতে দেয়ার জন্য প্রয়োজন উপবাস, উপবাস করলেই শরীরের সেই ডাক্তার কাজ করতে পারে।’

 

এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা পুরুষ, বহু বিদ্যাবিশারদ, গ্রন্থকার, রাজনীতিক, বিজ্ঞানী এবং কূটনীতিক বেঞ্জামিন ফ্রাঙ্কলিনের একটি বিখ্যাত উক্তি রয়েছে। তিনি বলেছেন, ‘সবচেয়ে ভালো ওষুধ হচ্ছে উপবাস এবং বিশ্রাম।’

 

শরীরকে নিরোগ রাখার প্রাকৃতিক সমাধান সবিরাম উপবাস, যা রয়েছে রোজায়ঃ সবিরাম উপবাস বা ইন্টারমিটেন্ট ফ্যাস্টিং প্রসঙ্গে আলোকপাত করার আগে আরও একটা বিষয়ে জেনে নেয়া ভালো, সেটি হচ্ছে ফ্যাস্টিং এবং স্টারভেশন কিন্তু এক নয়। স্টারভেশন মানে অপরিকল্পিত অনাহার যাতে অপুষ্টির ঝুঁঁকি থাকে। সবিরাম উপবাস বা ইন্টারমিটেন্ট ফ্যাস্টিং একটি পরিকল্পিত উপবাস, এর একটা নির্দিষ্ট ডিজাইন থাকে, নিয়ম থাকে তা সে যেমনই হোক। রোজা তেমন এক ধরনের উপবাস যা ধর্মীয় অনুশাসনের কারণে মুসলমানরা পালন করে থাকেন। বলা বাহুল্য, শরীরকে নিরোগ রাখার প্রাকৃতিক সমাধান হচ্ছে, সবিরাম উপবাস। মানুষের শরীরটা এমনভাবে তৈরি যে, প্রতিকূল পরিস্থিতির জন্য শরীর খাবার সঞ্চিত রাখতে পারে। কেউ যদি টানা ১০-১২ ঘণ্টা উপোস থাকেন তখন লিভারে সঞ্চিত খাবার গ্লাইকোলাইসিস প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শরীরে খাবারের চাহিদা পূরণ করে শক্তির জোগান দেয়। এছাড়া উপবাসে শরীরের বাড়তি চর্বি ব্যবহৃত হয়, কমে যায় ক্ষতিকর কোলেস্টেরল মাত্রা, হ্রাস পায় হৃদরোগের ঝুঁঁকি, সহজেই নিয়ন্ত্রণে থাকে উচ্চ রক্তচাপ, একইসাথে কমে যায় ওজনও। তাছাড়া মানসিক প্রশান্তি তো রয়েছেই। এগুলোর প্রায় সবই আমাদের জানা আছে। আর রোজা রাখার মাধ্যমে পূর্ণমাত্রায় লাভ করা যায় এর প্রতিটি উপকার।

 

অটোফেজি যেভাবে কাজ করেঃ

 

অটোফেজি বা দীর্ঘ উপবাসের বিষয়টি আলোচনায় আসায় আমরা জানতে পারি, আরেকটি ব্যাপার ঘটে থাকে আমাদের শরীরের মধ্যে। সেটি হচ্ছে, প্রতিনিয়ত আমাদের শরীরের বিভিন্ন কোষ মরে যায়, মৃত এই কোষগুলো কোষের অভ্যন্তরে লাইসোজোম নামের নামের একটি বিশেষ কোষাঙ্গে জমা হতে থাকে। একইভাবে শরীরের মধ্যে মৃত ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাসও জমা থাকে লাইসোজোমে। বলা যেতে পারে লাইসোজোম হচ্ছে কোষের রিসাইকেল গার্বেজ বিন। কিন্তু শরীর যখন কোন চাপের মুখে পড়ে তখন রিসাইকেল গার্বেজ বিনে সঞ্চিত মৃতকোষগুলো থেকে শরীর শক্তি এবং নতুন কোষ তৈরি করে। যার ফলে শরীরের বর্জ্য ব্যবহৃত হয়ে শরীরকে করে দূষণমুক্ত। শরীরের এই প্রক্রিয়াকে বলা হয় অটোফেজি, যার অর্থ হলো সেল্ফ ইটিং বা আত্মভক্ষণ। অটোফেজি হচ্ছে শরীরকে প্রাকৃতিকভাবে দূষণমুক্ত করার পদ্ধতি। কোনো কারণে এই অটোফেজি প্রক্রিয়া ব্যাহত হলে শরীরে বিষাক্ত পদার্থের পরিমাণ বেড়ে গিয়ে তা টাইপ-টু ডায়াবেটিস ও ক্যান্সারের সৃষ্টি করতে পারে। কারণ হয়ে উঠতে পারে অন্যান্য রোগ ও উপসর্গের।

 

রোজা রাখার মাধ্যমে খুব সহজেই হয়ে যায় অটোফেজিঃ

 

এছাড়াও অটোফেজি প্রক্রিয়ায় শরীরে তৈরি হয় নাইট্রিক অক্সাইড। এই নাইট্রিক অক্সাইড দেহকোষকে পুনরুজ্জীবিত করে বাড়িয়ে দেয় কোষের আয়ু যা এন্টি এজিং বা বার্ধক্যরোধক হিসেবে কাজ করে। কোষ পুনরুজ্জীবনের ইতিবাচক প্রভাব পুরো শরীরের ওপরই পড়ে যা অন্য অঙ্গের উপকারে আসে। তার মানে হচ্ছে, অটোফেজি শরীরকে ভাঙে না বরং গড়ে তোলে। আর অটোফেজির এই পদ্ধতিকে চালু করতে প্রয়োজন কিছুটা দীর্ঘ তবে সবিরাম উপবাস। যা রোজা রাখার মাধ্যমে খুব সহজেই আপনি করতে পারেন। তবে এসবকিছুই সুস্থ ব্যক্তির সুস্থতাকে ধরে রাখার জন্য। অসুস্থ ব্যক্তির জন্য অটোফেজি কিংবা রোজা কোনোটাই স্বাস্থ্যগত সুফল প্রদানের কারণ হওয়ার কথা নয়। এমনকি কিছু কিছু অসুস্থতায় সবিরাম উপবাস এবং অনাহার দুটোই বরং ক্ষতিকর। অধিকাংশ নিয়ন্ত্রণযোগ্য রোগের ক্ষেত্রে সবিরাম উপবাস উপকারে আসে। তবে যাদের রোগ নিয়ন্ত্রণে নেই তাদের উচিত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ মোতাবেক পদক্ষেপ নেয়া।

 

রোজার শারীরিক আরও কিছু উপকারিতাঃ

 

পবিত্র মাহে রমজান। মোবারক মাস। বরকতময় মাস। মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ এই মাস। এই মাসে খাওয়া-দাওয়া এবং পানি পান করার সময়সূচী পুরোপুরিভাবে বদলে যায়। এর ফলে শরীরের উপর একটা পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই লক্ষ্য করা যায়। খাদ্যাভ্যাসের হঠাৎ এই পরিবর্তনের কারণে রোজার সময় শরীরে বিভিন্নরকম ছোটখাট সমস্যা দেখা দিতে পারে, যেমন – গ্যাস্ট্রিক, পানিশূন্যতা, শারীরিক অস্বস্তি ইত্যাদি, যা একটু সচেতনভাবে চললেই এড়িয়ে যাওয়া কিংবা নিরাময় করা সম্ভব। এর বিপরীতে দীর্ঘ একটি মাসের এই ফরজ রোজাগুলো পালন করে শরীরে লাভ করা সম্ভব অনেক অনেক উপকারিতা। সেসব উপকারিতার সামান্য কয়েকটি তুলে ধরছি সম্মানিত পাঠকের খেদমতে-

 

রোজা ওজন কমাতে সাহায্য করেঃ

 

শরীরে যাদের বাড়তি ওজন, তারা এই সময়ে বিশেষভাবে উপকৃত হয়ে থাকেন। যেহেতু রমজানুল মোবারকের পুরো মাসজুড়ে রোজাদার ব্যক্তিগণ খাদ্যাভ্যাসে নির্দিষ্ট নিয়ম এবং রুটিন মেনে চলেন, সকাল-সন্ধ্যায় স্বাস্থ্যকর ডায়েট অনুসরণ করেন, যেমন- স্যুপ, রুটি, খেজুর এবং অন্যান্য ফল ফ্রুট, যা দ্রুত ওজন হ্রাস করতে সহায়তা করে। এসময়ে সাধারণতঃ চিনি এবং চর্বিযুক্ত খাবার এড়িয়ে যেতে দেখা যায়। এর পরিবর্তে তাজা ফল, তাজা শাকসবজি এবং পানি গ্রহণের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়। এর ফলে ওজন হ্রাসপ্রাপ্ত হয়।

 

ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণ করে রোজাঃ

 

রমজানে রোজা রাখার অন্যতম সুবিধা হলো এটি আপনার রক্তে শর্করাকে নিয়ন্ত্রণ করতে সহায়তা করে। রোজা আপনার গ্লুকোজকে ভেঙে দেয়, যাতে শরীর শক্তি পেতে পারে যা ইনসুলিনের উৎপাদন হ্রাস করে।

 

উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে রোজাঃ

 

রোজা এথেরোস্ক্লেরোসিসের ঝুঁকি হ্রাস করতে সাহায্য করতে পারে। দেহ খাদ্য এবং পানি থেকে বঞ্চিত হওয়ার পরেও শরীরে সঞ্চিত ফ্যাট শক্তি হিসেবে ব্যবহৃত হয়। রোজার সময় বিপাকের হারও হ্রাস পায়। অ্যাড্রিনালিন এবং ননঅ্যাড্রিনালিন হরমোনগুলির ক্ষরণও হ্রাস পায়; এটি বিপাকের হারকে স্থিতিশীল রাখতে সহায়তা করে, যার ফলে উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে।

 

পেশীশক্তি সংরক্ষণ করেঃ

 

আপনার পেশীগুলিতে সঞ্চিত ফ্যাট ব্যবহৃত হবে। আপনি যখনই কার্বোহাইড্রেট গ্রহণ করেন, তখন গ্লাইকোজেন (ফ্যাট সেল) যুক্ত হয়, যা ওজন বাড়িয়ে তোলে। তবে তবে রমজানের রোজার সময় ফ্যাট কোষগুলি শক্তির উৎস হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

 

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা উন্নত করেঃ

 

রোজার সময় মানুষ সাধারণত সেহরি ও ইফতারে মাঝে স্বাস্থ্যকর খাবার খায়। এটি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে, টক্সিন নির্মূল করতে এবং চর্বি হ্রাস করতে সহায়তা করে। রোজা ভাঙার জন্য যখন খেজুর এবং ফল খাওয়া হয় তখন এগুলি শরীরের প্রয়োজনীয় ভিটামিন এবং খনিজগুলির সঞ্চয় বাড়ায়। ভিটামিন এ এবং ভিটামিন ই সমস্ত ফলের মধ্যে উপস্থিত, যা আপনার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করে।

 

প্রদাহ দূর করেঃ

 

রমজানে রোজা রাখার আরেকটি শারীরিক সুবিধা হলো এটি প্রদাহজনিত রোগ এবং অ্যালার্জির সারাতে সহায়তা করে। প্রদাহজনিত রোগের কয়েকটি উদাহরণ হলো- আর্থারাইটিস এবং ত্বকের রোগ যেমন সোরিয়াসিস। বিশেষজ্ঞরা বলেছেন যে, রোজার ফলে আলসারেটিভ কোলাইটিসের মতো প্রদাহজনক পেটের রোগ নিরাময়ের উন্নতি হতে পারে।

 

মস্তিষ্কের কার্যকারিতা উন্নত করেঃ

 

অনেক গবেষণায় দেখা গেছে যে, রোজা কিছু নির্দিষ্ট প্রোটিনের উৎপাদন বাড়িয়ে তুলতে পারে, যা মস্তিষ্কের ক্রিয়াকলাপের জন্য উপকারী। এই প্রোটিনগুলো মস্তিষ্কের স্টেমসেলগুলো সক্রিয় করতে সহায়তা করে, যাতে তারা যাতে তারা ভালোভাবে কাজ করতে পারে। এই কারণেই আপনি যখন রোজা রাখেন তখন আপনার মস্তিষ্ক সজাগ হয়ে যায়।

 

আত্মনিয়ন্ত্রনের মানসিকতা তৈরি করেঃ

 

নিজেকে নিয়ন্ত্রণের শিক্ষা দেয় পবিত্র মাহে রমজান। রমজানের সময় রোজার এটি অন্যতম বিশেষ একটি শিক্ষা- আপনার শরীরের চাহিদা এবং আকাঙ্ক্ষা থাকা সত্বেও খাদ্য, পানীয় এবং কামনা বাসনা ইত্যাদি পূরণ না করে কীভাবে মনের এসব চাহিদাকে নিয়ন্ত্রণ করবেন তা শেখার জন্য প্রস্তুত করে। এই প্রক্রিয়াতে, মস্তিষ্ক সেই অবস্থার সাথে মানিয়ে নেয় এবং কীভাবে আরও ধৈর্যশীল হতে হয় তা রমজান আমাদের শেখায়।

 

মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআ’লা পবিত্র মাহে রমজানের রহমত, বরকত এবং মাগফিরাতকে আমাদের জন্য অবধারিত করে দিন। তিনি আমাদের প্রত্যেককে সঠিক নিয়মে রোজা পালনের মাধ্যমে তাঁর পরিপূর্ণ সন্তুষ্টি অর্জনের তাওফিক দান করুন।

 

তথ্যসূত্রসমূহঃ

 

০১. বিজ্ঞানী ইয়োশিনোরি ওহশোমি ও অটোফেজি

 

০২. Ongsara S, Boonpol S, Prompalad N, Jeenduang N. The Effect of Ramadan Fasting on Biochemical Parameters in Healthy Thai Subjects. J Clin Diagn Res. 2017;11(9):BC14–8. doi: 10.7860/JCDR/2017/27294.10634. [PMC free article] [PubMed] [CrossRef] [Google Scholar]